২০ কোটি নাগরিককে টিকা দিয়ে বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত করবে যুক্তরাষ্ট্র
২০ কোটি মার্কিন নাগরিককে করোনা টিকা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বের জন্য টিকা উন্মুক্ত করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি।
তিনি বলেন, ২০ কোটি মার্কিন নাগরিককে করোনা টিকা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বের জন্য টিকা সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র তার ২০ কোটি নাগরিককে করোনার টিকা দেওয়ার পর অন্য দেশগুলোর জন্য এই টিকা উন্মুক্ত করবে। আগামী মাসেই এই ২০ কোটি জনগণকে টিকা দেওয়া নিশ্চিত করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত লিডার্স সামিট অন ক্লাইমেটের আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিতে শুক্রবার ৬ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় এসে তিনি এ কথা জানান।
দিল্লি থেকে শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসে সফরের শুরুতে জন কেরি বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন জন কেরি। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। পরে বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে ঢাকা ছেড়ে যান জন কেরি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ স্বীকৃতি পাবেন শেখ হাসিনা:
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অবদানের জন্য শেখ হাসিনা এই স্বীকৃতি পাবেন।
শুক্রবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২২-২৩ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট জোসেফ বাইডেনের ‘লিডার্স সামিট অন ক্লাইমেট’-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জন কেরির শুক্রবারের এই ঢাকা সফর। যেখানে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর নেতা হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ স্বীকৃতি পাবেন।
এদিকে জন কেরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভালনারেবল ফোরাম প্রেসিডেন্সির বিশেষ দূত আবুল কালাম আজাদ, সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
ক্লাইমেট ভালনারেবণ ফোরাম ও ভালনারেবল টুয়েন্টি গ্রুপ অব ফাইন্যান্সের মিনিস্টার্সের চেয়ার হিসাবে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং জলবায়ুর ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ও সহনশীলতা অর্জনের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জলবায়ু অর্তায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে একটি গোলটেবিলেও অংশ নেন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিশেষ দূত। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার তার সরকারি বাসভবনে এই আলোচনার আয়োজন করেন।
জলবায়ু সংকট রোধে প্রশমন ও অভিযোজনকে সহায়তা দিতে এবং সমৃদ্ধিকে সমর্থন জোগাতে যে বিনিয়োগ দরকার, তা সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে কাজ করবে বলে জানান ঢাকায় সফররত জন কেরি।