ডেনমার্কে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ একটি আলোচনাসভার আয়োজন করে।
ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা মজুমদার বাচ্চুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় গত ২৪ জুন রাত ১০টায় আলোচনাসভার মধ্য দিয়ে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। এ উপলক্ষে একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফিউল সাফি, সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার সাইদুর রহমান, সহসভাপতি খোকন মজুমদার, নাসির উদ্দিন সরকার, ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা রাফায়েত হোসেন মিঠু, রিয়াজুল হাসনাত রুবেল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, জাতীয় চার নেতা, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থসম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দিকুর রহমান রাসেল, রাজু আহম্মদ, মোহাম্মদ আশরাফ ফরাদ, মশিউর রহমান শাওন, রনি, ওমর, আমির জীবন, ফজলে রাব্বি, শামসুল আলম, সোহেল আহমেদ, সাফায়েত অন্তর, শামীম খান, তাসবির হোসেন, মাঞ্জুর আহমেদ মামুন, মনসর আহমেদ, মোহাম্মাদ ইউসুফ, মাসুম বিল্লাহ, শাওন রহমান, সাইদুর রহমান, নাজমুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, হাসান শাহীন, তুহিন, আরিফুল হক আরিফ, আজাদুর রহমান, রাজ্জাক, নাজমুল হোসেন, দোলন প্রমুখ।
বিবৃতিতে আরও সম্মতি জানান আওয়ামী যুবলীগ ডেনমার্ক শাখা, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ডেনমার্ক শাখা ও ছাত্রলীগ ডেনমার্ক শাখার সব নেতাকর্মী।
আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, ১৯৪৯ সালের এই দিনে পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী এ দলটির ৬৯ বছর শেষ করে ৭০ বছরে পদার্পণ করেছে।
এই দিনে প্রতিষ্ঠিত এ দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে এ দেশের গণমানুষের সংগঠনে পরিণত হয়।
পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে এ দলের আত্মপ্রকাশ ঘটলেও পরে শুধু আওয়ামী লীগ নাম নিয়ে অসাম্প্রদায়িক সংগঠন হিসেবে বিকাশ লাভ করে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ দেশে পাকিস্তানি সামরিক শাসন, জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে সব আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এ দলটি।
'৫২-এর ভাষা আন্দোলন, '৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আইয়ুবের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, '৬৪-এর দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, '৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন এবং '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পথ বেয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২৪ বছরের আপসহীন সংগ্রাম-লড়াই এবং ১৯৭১ সালের ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ তথা সশস্ত্র জনযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের ফসল- স্বাধীন সার্বভৌম 'বাংলাদেশ'।
পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা হলেও দীর্ঘ ২১ বছর লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটির প্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জয়ী হয়ে ২৩ জুন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসে।
২০০১ ও ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পর আরেক দফা বিপর্যয় কাটিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশ আসনে বিজয়ী হয়ে আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় এ দলটি।
পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে টানা দুই মেয়াদে সরকার পরিচালনা করছে। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।