
রাশিয়ার শীর্ষ এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০টি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে। এসব অঞ্চলে কুর্দি জঙ্গিদের অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করে তুরস্ককে যুদ্ধ করতে উসকানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের কর্মকর্তা আলেকজান্দার ভেনেদিকতোভ এসব কথা বলেছেন।
রুশ গণমাধ্যম বলছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় শান্তি স্থাপনে প্রধান অন্তরায় বাইরের হস্তক্ষেপ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া যুদ্ধে অনধিকারচর্চা করছে।
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আক্রমণ প্রতিরোধকারী সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী কুর্দিদের পিপলস্ প্রটেকশন ইউনিটকে (ওয়াইপিজি) সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াইপিজি সিরিয়ান কুর্দিস ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টির (পিওয়াইডি) সশস্ত্র শাখা।
ওয়াইপিজি সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল একটি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, যা এক সময় আইএসের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই এলাকায়ই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ঘাঁটিগুলো স্থাপন করেছে বলে অভিযোগ রাশিয়ার।
ওয়াইপিজিকে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলো স্বায়ত্তশাসনের জন্য সশস্ত্র বিদ্রোহরত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) বর্ধিতাংশ বলে বিবেচনা করে আঙ্কারা। ওয়াইপিজির শক্তি বৃদ্ধিতে নিষিদ্ধঘোষিত পিকেকে আরো উজ্জীবিত হয়ে উঠবে, এমন ধারণায় শঙ্কিত তুরস্ক সরকার।
এই কারণে তুরস্কের সীমান্ত সংলগ্ন আফ্রিন থেকে ওয়াইপিজির যোদ্ধাদের হটাতে সেখানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকার।
অপরদিকে তুরস্কের সামরিক অভিযানের বিরোধী সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ কুর্দিদের আহ্বানে তুর্কি সেনাদের প্রতিরোধে তার অনুগত বাহিনীকে আফরিনে পাঠিয়েছেন।
নিউইয়র্ক মেইল/রাশিয়া/১ মার্চ ২০১৮/এইচএম