শিরোনাম
সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ড. ইউনূসের বক্তব্যে ভারতে তোলপাড়, বাংলাদেশের জবাব মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র গিনিতে ফুটবল ম্যাচে সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ১০০ নিহত পুতিনের লিমোজিনে বিস্ফোরণ, হত্যাচেষ্টা নাকি দুর্ঘটনা? ভারতে আবারও ২২ মাওবাদী নিহত দক্ষিণী নির্মাতার হাত ধরে খলনায়ক হয়ে ফিরছেন শাহরুখ ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাবে যাদের জিমেইল টিকটক নিষিদ্ধ হলো যুক্তরাষ্ট্রের ২০টির বেশি অঙ্গরাজ্যে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন হান কাং বিশ্বসেরার স্বীকৃতি পেল ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর ‘মেগা’ ভূমিকম্পে জাপানে ৩ লাখ মানুষের প্রাণ যেতে পারে নিভে গেল বাতিঘর..... গুগল-অ্যাপলকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে দামি ব্র্যান্ড অ্যামাজন পড়াশোনা শেষে ব্রিটেনে থাকতে পারবেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা
Update : 19 June, 2024 18:12

উইঘুর মুসলিমদের গ্রামের নাম বদলে দিল চীন

উইঘুর মুসলিমদের গ্রামের নাম বদলে দিল চীন
মেইল রিপোর্ট :

কাজাখস্তান সীমান্তঘেঁষা চীনের মুসলিম অধ্যুষিত শিনজিয়াং প্রদেশের সাড়ে ৩ হাজারের বেশি গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে চীন। সেখানে প্রায় ১ কোটি উইঘুর বসবাস করে। 

উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতির চিহ্ন মুছে ফেলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদেনে অভিযোগ করা হয়েছে। 

নরওয়ের একটি সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে কাজ করে। তাদের সঙ্গে একত্রে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সেখানে বলা হয়েছে, নিজেদের কমিউনিস্ট আদর্শ প্রচার করতে শিনজিয়াং প্রদেশে তিন হাজার ৬০০টি গ্রামের নাম বদলে দিয়েছে চীনের প্রশাসন।

২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান বিভাগে নথিভুক্ত ২৫ হাজার গ্রামের নাম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে সংস্থা দুটি। সেখানেই তারা দেখতে পেয়েছে, তিন হাজার ৬০০টি গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। 

অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ৬৩০টি গ্রাম সরাসরি উইঘুর মুসলিমদের। তাদের গ্রামের নামের সঙ্গে উইঘুর বা মুসলিম সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট শব্দ যুক্ত ছিল। সেই শব্দগুলো বাদ দিয়ে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।

কয়েকটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে ওই রিপোর্টে। কোনো কোনো গ্রামের নামের সঙ্গে দুতার শব্দটি যুক্ত ছিল। যার অর্থ উইঘুর বাদ্যযন্ত্র। অথবা কোনো কোনো নামের সঙ্গে মাজার শব্দটি যুক্ত ছিল। তা বদলে ঐক্য, সম্প্রীতি, আনন্দের মতো শব্দ বসানো হয়েছে। এই ধরনের শব্দ চীনের শাসক বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করে। এই শব্দগুলোর সঙ্গে কমিউনিস্ট শাসনের যোগ আছে বলে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য।

এখানেই শেষ নয়, সুফি শব্দ হোজা, হানিকা কিংবা বকসি-র মতো শব্দও বদলে দেওয়া হয়েছে। অবলুপ্ত করা হয়েছে ১৯৪৯ সালের আগের উইগুর ইতিহাস।

শিনজিয়াং অঞ্চলে এভাবে আরো বহু গ্রামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু অন্যান্য জনজাতির গ্রাম আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। 

মূলত ঐতিহ্য ধ্বংস করতেই একাজ করা হয়েছে বলে রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে। এবিষয়ে চীনের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তারা এনিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

চীন-কাজাখস্তান সীমান্তে প্রায় এক কোটি উইঘুর মুসলিম বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসছে। এ নিয়ে চীনকে সতর্ক করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতির বড় কোনো বদল ঘটেনি বলেই মনে করা হচ্ছে।

উপরে